sa.gif

অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্সের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে কারখানা মালিকরা
রিয়াদ হোসেন :: 23:05 :: Sunday August 20, 2017 Views : 24 Times

দেশে ইউরোপ ও আমেরিকার ক্রেতাদের কারখানা পরিদর্শন জোট অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে কারখানা মালিকদের সঙ্গে দূরত্ব ক্রমেই বাড়ছে। ইতিমধ্যে প্রায় আড়াইশ’ কারখানার সঙ্গে ব্যবসা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে উভয় জোট। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে কারখানা মালিকদের ঘোরতর আপত্তি রয়েছে। ফলে আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন অনেকে। ইতিমধ্যে কেউ কেউ আদালতে রিট দায়ের করে ব্যবসা বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশও পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

কিছু কারখানা অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স - উভয় জোটের ক্রেতাদের পোশাক তৈরি করে। এক্ষেত্রে যে কোন একটি পক্ষ ওই কারখানার সংস্কার কার্যক্রম দেখভাল করবে বলে ত্রিপক্ষীয় কমিটির সিদ্ধান্ত রয়েছে। সেক্ষেত্রে একপক্ষের মূল্যায়ন অন্যপক্ষ গ্রহণ করবে। কিন্তু এ বিষয়টি মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি টঙ্গির বিএইচআইএফ অ্যাপারেলের সঙ্গে ব্যবসা ছিন্ন করে তা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে অ্যালায়েন্স। এটি চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন করে কারখানাটি। সম্প্রতি আদালত ব্যবসা বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দুই মাসের স্থগিতাদেশ দেন। এর পর অ্যালায়েন্সের ওয়েবসাইটে স্থগিতাদেশের তালিকা থেকে ওই কারখানার নাম সরিয়ে নেওয়া হয়।

চট্টগ্রামের স্মার্ট গ্রুপের একাধিক পোশাক কারখানার সঙ্গেও এমন ঘটনায় রিট হয়েছে। সূত্র জানায়, কারখানাটি অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের বায়ারদের পোশাক তৈরি করে। অ্যালায়েন্স কারখানাটিতে সংস্কার কাজ দেখভাল করলেও সংস্কারের অগ্রগতি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে ব্যবসা বাতিলের ঘোষণা দেয় অ্যাকর্ড। এর পর কারখানা মালিক আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।

আরো বেশ কয়েকজন কারখানা মালিক অ্যাকর্ড কিংবা অ্যালায়েন্সের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে গিয়েছেন বলে জানা গেছে। ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসের পর লিবার্টি ফ্যাশন নামে একটি কারখানার ইউরোপীয় ক্রেতারা কারখানা ভবনটি পাকিস্তানের একটি প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে পরীক্ষা করায়। তখনো অ্যাকর্ডের জন্ম হয় নি। পরীক্ষা করে কারখানাটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ফলে কাজ বন্ধ হয়ে যায় কারখানাটির। কিন্তু মালিকপক্ষ দাবি করে আসছিলেন, কারখানাটি ঝুঁকিপূর্ণ নয়। কারখানাটি ফের পরীক্ষা করার জন্য অ্যাকর্ডকে অনুরোধ জানানোর পরও কাজ হয় নি। পরবর্তীতে আদালতে যায় লিবার্টি কর্তৃপক্ষ। আদালত অ্যাকর্ডকে কারখানাটি পরীক্ষার নির্দেশ দেন। গত কয়েক মাস আগে অ্যাকর্ড ওই কারখানা ভবনের কাঠামো পরীক্ষা করে। পরীক্ষায় কারখানাটি ঝুঁকিপূর্ণ নয় বলে প্রমাণ হয়। অথচ প্রথম প্রতিবেদনের কারণে বড় আকারের এ কারখানাটির সঙ্গে ব্যবসা করতে আসেনি কোন বায়ার। ফলে ক্ষতি গুণতে হয় কোটি কোটি টাকার। এখন কারখানা কর্তৃপক্ষ ব্র্যান্ড ও অ্যাকর্ডের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

আদালতে রিটের বিষয়টি স্বীকার করেছেন বাংলাদেশে অ্যাকর্ডের নির্বাহী পরিচালক রব ওয়েস। যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কমপ্লায়েন্সের ঘাটতির কারণে অ্যাকর্ডভুক্ত ব্র্যান্ডের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণায় কিছু কারখানা মালিক আদালতে রিট দায়ের করেছেন। তবে আদালতের সিদ্ধান্তের আগে এ বিষয়ে আর বিস্তারিত কিছু বলতে চান নি তিনি।

উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, যে সব কারখানায় অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের ব্র্যান্ড রয়েছে - এমন কারখানার সংস্কার মূল্যায়নের ক্ষেত্রে মূলত সমস্যা হচ্ছে। এক্ষেত্রে একটি পক্ষ তদারক করে মূল্যায়ন প্রতিবেদন দিলে অন্য পক্ষ তা মানার কথা। কিন্তু এটি মানা হচ্ছে না। তবে বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, অ্যাকর্ড কিংবা অ্যালায়েন্সের সিদ্ধান্তের বিষয়ে আদালতে যাওয়া কারখানা মালিকদের ব্যক্তিগত বিষয়। এটি বিজিএমইএ’র কোন সিদ্ধান্ত নয়।

অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স প্রায় দুই হাজার দুইশ’ কারখানার সংস্কার দেখভাল করছে। এর মধ্যে অ্যাকর্ড এক হাজার ছয়শ’ ও অ্যালায়েন্সের অধীনে ছিল প্রায় ছয়শ’ কারখানা। ইতিমধ্যে উভয় জোট ২৪৮টি কারখানার সঙ্গে ব্যবসা বাতিল করেছে। অ্যালায়েন্স ছয়শ’ কারখানার মধ্যে ১৫৭টির সঙ্গে ব্যবসা বাতিল করেছে। আর অ্যকর্ড বাতিল করেছে ৯১টির সঙ্গে।

যে সব অভিযোগে ব্যবসা বাতিল করা হয়েছে, তার সঙ্গে একমত নন কারখানা মালিকরা। এ নিয়ে সম্প্রতি বিজিএমইএ আয়োজিত বিশেষ সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বেশ কয়েকজন কারখানা মালিক। ওই সভায় বক্তব্য প্রদানকালে হা-মীম গ্রুপের প্রধান এ কে আজাদ বলেন, অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্স সংস্কারের জন্য নতুন নতুন কাজ ও শর্ত দেয়। নইলে নন কমপ্লায়েন্স হিসেবে ব্যবসা ছিন্ন করে। ফলে অর্ডার বন্ধ হয়ে যায়।

২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসের পর বাংলাদেশের কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষায় গঠিত হয় অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের। কারখানা ভবনের কাঠামো, অগ্নি ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা করে তা সংস্কারে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। এ দুটি জোট পাঁচ বছর বাংলাদেশের তাদের কার্যক্রম চালানোর কথা। আগামী বছর তাদের কার্যক্রম শেষ হওয়ার কথা। অবশ্য অ্যাকর্ড আরো তিন বছর কার্যক্রম বাড়ানোর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও কারখানা মালিকপক্ষ তা চান না।



Comments





Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution