sa.gif

জর্ডানে অভিবাসী পোশাক শ্রমিকের ৪৯% বাংলাদেশী
আওয়াজ প্রতিবেদক :: 18:08 :: Thursday July 6, 2017 Views : 25 Times

 

জর্ডানে অভিবাসী পোশাক শ্রমিকের ৪৯% বাংলাদেশীজর্ডানে অভিবাসী পোশাক শ্রমিকের ৪৯% বাংলাদেশী

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ জর্ডানে পোশাক শিল্প ঘিরে কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশীদের। বর্তমানে দেশটির পোশাক শিল্পে কর্মরত প্রায় ২৪ হাজার বাংলাদেশী; জর্ডানের পোশাক শিল্পে কর্মরত মোট প্রবাসী শ্রমিকের যা ৪৯ শতাংশ। মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির পোশাক শিল্পে বাংলাদেশীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ হলেও বিভিন্ন কমপ্লায়েন্স ইস্যুতে রয়েছে ঘাটতি।
জর্ডানের শিল্প খাতের কমপ্লায়েন্স পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) যৌথ উদ্যোগ ‘বেটারওয়ার্ক’। ‘অ্যানুয়াল রিপোর্ট ২০১৭: অ্যান ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স রিভিউ’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জর্ডানের পোশাক শিল্পে মোট শ্রমিক সংখ্যা ৬৫ হাজারের বেশি। এর মধ্যে মাত্র ১৬ হাজার স্থানীয় শ্রমিক। বাকি ৪৯ হাজারই অভিবাসী শ্রমিক। ২৪ হাজারই বাংলাদেশী ছাড়াও শিল্পটিতে কর্মরত চীনের শ্রমিক রয়েছেন ১৮ শতাংশ। প্রায় সমসংখ্যক শ্রমিক ভারতীয়। এর বাইরে শ্রীলংকা ও পাকিস্তানের ৬ শতাংশ করে শ্রমিক জর্ডানের পোশাক শিল্পে কর্মরত।
বাংলাদেশে বিপুল সংখ্যক পোশাক কারখানা থাকার পরও বাড়তি মজুরির কারণেই মূলত জর্ডানের পোশাক শিল্পকে বেছে নিচ্ছেন শ্রমিকরা। পাশাপাশি সামাজিক স্বীকৃতির বিষয়টিও কাজ করছে এর পেছনে।
জানতে চাইলে পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহসভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, শুধু জর্ডান নয়, কম্বোডিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোতেও বাংলাদেশের অনেক পোশাক শ্রমিক কাজ করেন। সামাজিক স্বীকৃতি ও বাড়তি মজুরির কারণেই মূলত সেখানে যাচ্ছেন শ্রমিকরা। তবে আমার মনে হয়, এ চিত্র এখন পাল্টে গেছে। পোশাক শিল্পের শ্রমিকরা কাজের জন্য আর বিদেশমুখী হচ্ছেন না।
দেশের পোশাক শিল্পের শ্রমিক প্রতিনিধিরা বলছেন, বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকরা নিজেদের দক্ষতার কারণেই বিদেশে স্থাপিত পোশাক কারখানায় কাজের সুযোগ পাচ্ছেন। আর ন্যায্য মজুরি পাওয়ার নিশ্চয়তায় তারা কাজের সুযোগটিও গ্রহণ করছেন। কিন্তু তাদের শ্রম অধিকারের বিষয়টি দেশ ও বিদেশ সবক্ষেত্রেই প্রশ্নবিদ্ধ।
গত ২৮ জুন জর্ডানের আল হাসান শহরে অবস্থিত পোশাক কারখানা ক্ল্যাসিক ফ্যাশন ওয়্যারে বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১৫ শ্রমিকের মৃত্যু হয়ে, যার মধ্যে বাংলাদেশী ও ভারতীয় শ্রমিকও ছিলেন। জর্ডানে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিরা এ দুর্ঘটনায় বাংলাদেশী শ্রমিক নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত না করলেও সেখানকার শ্রমপরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি শ্রমিকদের।
শ্রমিকদের এ উদ্বেগের প্রতিফলন দেখা গেছে বেটারওয়ার্কের প্রতিবেদনও। এতে বলা হয়েছে, জর্ডানের পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের মধ্যে বৈষম্য, স্বাধীন শ্রমসংঘ গঠন ও দরকষাকষির অধিকারের মতো বিষয়ে নন-কমপ্লায়েন্স মাত্রা অনেক বেশি।
জর্ডানের পোশাক কারখানার কমপ্লায়েন্স ও নন-কমপ্লায়েন্স পর্যালোচনায় জরিপের মাধ্যমে বেশকিছু বিষয় উপস্থাপন করা হয়েছে আইএলওর প্রতিবেদনে। এতে কমপ্লায়েন্স ও নন-কমপ্লায়েন্স পর্যালোচনার মাপকাঠির মধ্যে ছিল শিশুশ্রম, বৈষম্য, জোরপূর্বক শ্রম, স্বাধীন শ্রমসংঘ ও দরকষাকষির অধিকার, ক্ষতিপূরণ, কর্মচুক্তি, পেশাগত নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও কর্মঘণ্টা।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশটিতে শ্রেণীবৈষম্যমূলক নন-কমপ্লায়েন্স মাত্রা ৭৩ শতাংশ। স্বাধীন শ্রমসংঘ গঠনে নন-কমপ্লায়েন্স মাত্রা শতভাগ। সামষ্টিক দরকষাকষিতে নন-কমপ্লায়েন্স মাত্রা ৮৭ শতাংশ। পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য বিবেচনায় স্বাস্থ্যসেবা ও প্রাথমিক চিকিত্সায় নন-কমপ্লায়েন্স মাত্রা ৮৮ শতাংশ। শ্রমিকের আবাসন ও সুরক্ষায় নন-কমপ্লায়েন্স মাত্রা যথাক্রমে ৭৮ ও ৭৯ শতাংশ। পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় নন-কমপ্লায়েন্স মাত্রা ৮৭ শতাংশ।
বেটারওয়ার্কের প্রতিবেদনটি সমর্থনযোগ্য বলে মনে করেন সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার। তিনি বলেন, জর্ডানসহ আরো বেশ কয়েকটি দেশে বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকরা কাজ করছেন। আমরা এ বিষয়ে শ্রমিকদের সবসময় নিরুত্সাহিত করি। কারণ সেখানে অনেক ধরনের নির্যাতনের শিকার হতে হয় শ্রমিকদের। এছাড়া কর্মঘণ্টাও অনেক বেশি। আসলে শ্রমিক শোষণের চিত্র বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই একই রকম। তাই সার্বিকভাবে বাংলাদেশের চেয়ে শ্রম অধিকার জর্ডানে খুব ভালো, এটা বলা যাবে না। তবে সবকিছু ছাপিয়ে বেশি মজুরি পাওয়ার নিশ্চয়তার কারণেই পোশাক শ্রমিকরা জর্ডানের মতো আরো অনেক দেশে গিয়ে কাজ করছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ জর্ডানের পোশাক শিল্পে গত কয়েক বছরে অনেক পরিবর্তন এসেছে। দেশটির ওপর থেকে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া অভিবাসী শ্রমিকদের আবাসন সুবিধা-সংশ্লিষ্ট নজরদারি বাড়িয়েছে জর্ডানের শ্রম ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে বেটারওয়ার্ক কর্মসূচির মাধ্যমে শ্রম অধিকার নিশ্চিতের কার্যক্রম জোরদার করেছে আইএলও।
বেটারওয়ার্কের প্রতিবেদনে জর্ডানের পোশাক শিল্প সম্পর্কে বলা হয়েছে, পোশাক শিল্প জর্ডানের জন্য ঐতিহাসিক কোনো গুরুত্ব বহন করে না। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শিল্পাঞ্চল-বিষয়ক চুক্তির মাধ্যমে দেশটিতে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পায় জর্ডান। এরপর ১৯৯০-৯৬ সালের মধ্যে ব্যাপক প্রবৃদ্ধি অর্জন করে জর্ডানের পোশাক শিল্প। ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিও হয় জর্ডানের।
বর্তমানে জর্ডানের মোট রফতানিতে পোশাক শিল্পের অবদান ১৯ শতাংশ। খাতটি থেকে জর্ডানের আয় হয় বছরে ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। ২০১৬ সালে দেশটির পোশাক রফতানি আয়ের প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ শতাংশ। বর্তমানে দেশটিতে রফতানিমুখী পোশাক কারখানার সংখ্যা ৮১। এর মধ্যে ৩৫টি সরাসরি ও ৩০টি ঠিকা (সাব-কন্ট্রাক্ট) পদ্ধতিতে পরিচালিত। এছাড়া বাকি ১৬টি স্যাটেলাইট ইউনিট।
বেটারওয়ার্ক মোট ৬৭টি কারখানার ওপর সরেজমিন জরিপ চালিয়ে প্রতিবেদনে কমপ্লায়েন্স পরিস্থিতি প্রকাশ করেছে। এতে অংশ নেন ২ হাজার ৭১৩ জন শ্রমিক। ৭৮ বার পরিদর্শন করা হয়েছে কারখানাগুলো। প্রতিবেদনের আওতায় থাকা কারখানাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— অ্যাপারেল কনসেপ্টস, বিজনেস ফেইথ গার্মেন্ট, ক্ল্যাসিক ফ্যাশন অ্যাপারেল ইন্ডাস্ট্রি, ইএএম মালিবান টেক্সটাইল, গ্যালাক্সি অ্যাপারেল, হাইফা অ্যাপারেল, আইভরি গার্মেন্টস ও জেরাশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ফ্যাশন।
বিদেশে পোশাক শ্রমিকদের অভিবাসন, সেখানকার শ্রমপরিস্থিতি ও সাম্প্রতিক দুর্ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) জাবেদ আহমেদ বলেন, সম্প্রতি জর্ডানে একটি কারখানায় দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় কোনো বাংলাদেশী শ্রমিক নিহত হয়েছেন, এমন তথ্য আমাদের কাছে নেই। জর্ডানের পোশাক কারখানায় বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক শ্রমিক কাজ করেন। শ্রমের বিপরীতে ভালো অর্থ পাওয়ার নিশ্চয়তায় তারা দেশটিতে পাড়ি জমাচ্ছেন। সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে জর্ডানে বাংলাদেশী শ্রমিকদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। অন্য অনেকের তুলনায় রাষ্ট্র হিসেবেও জর্ডান ভালো। এছাড়া শ্রমিক অধিকার, দরকষাকষি ও শ্রমের মূল্য— সব দিক বিবেচনায় প্রাপ্তি ভালো হওয়ার কারণেই দেশটির প্রতি বাংলাদেশী পোশাক শ্রমিকদের আগ্রহ বাড়ছে।



Comments





Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution