গাজীপুরের কাশিমপুরের নয়াপাড়া এলাকার মালটিফ্যাবস লিমিটেড নামের পোশাক কারখানার বয়লারে গত সোমবার ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। ছাড়পত্র ছাড়া এই বয়লার চালানোর দায়ে গাজীপুরের মালটিফ্যাবস কর্তৃপক্ষ জরিমানা করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রধান বয়লার পরিদর্শকের কার্যালয়। তবে জরিমানার পরিমাণ মাত্র ২০ হাজার টাকা।

জরিমানা নোটিশটি গতকাল মঙ্গলবার মালটিফ্যাবসের নামে ইস্যু করেছে প্রধান বয়লার পরিদর্শকের কার্যালয়। কারখানাটির বিরুদ্ধে অনুমোদনের চেয়ে বেশি চাপে এবং প্রধান বয়লার পরিদর্শকের ছাড়পত্র ছাড়া বয়লার চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ২৪ জুন কারখানার বিস্ফোরিত বয়লারটির ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ হয়। তারপরও গত শনিবার থেকে সেটি চালিয়ে আসছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।
গাজীপুরের কাশিমপুরের নয়াপাড়া এলাকার মালটিফ্যাবস লিমিটেড নামের পোশাক কারখানার বয়লারে গত সোমবার ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে কারখানাটিতে কর্মরত ১৩ জন শ্রমিক নিহত হন। আহত হন অর্ধশতাধিক শ্রমিক ও পথচারী।
জরিমানার বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রধান বয়লার পরিদর্শকের কার্যালয়ের প্রধান বয়লার পরিদর্শক মোহাম্মদ আবদুল মান্নান আজ বুধবার বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, ‘বয়লার আইনের ২৩ ও ২৪ ধারা অনুযায়ী মালটিফ্যাবসকে আমরা জরিমানা করেছি।’ এত কম জরিমানার বিষয়ে তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী আমরা কাজ করেছি।
গাফিলতি আর ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ১৩ শ্রমিক নিহত হওয়ার বিপরীতে মাত্র ২০ হাজার টাকা জরিমানার বিষয়টিকে হাস্যকর বলে মন্তব্য করেছেন শ্রম বিশেষজ্ঞ সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) এই নির্বাহী পরিচালক প্রথম আলোকে বলেন, বয়লার আইনটি শিগগিরই সংশোধন করা উচিত।
মালটিফ্যাবস লিমিটেডের কর্তৃপক্ষ গাফিলতিতেই বয়লারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে। ২৪ জুন বয়লারটি মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও গত শনিবার থেকে সেটি চালানো হচ্ছিল। এমনকি বিস্ফোরণের আগে ডাইং সেকশনের শ্রমিকেরা দুর্ঘটনার আঁচ করেছিলেন। তবে কিছু হয়নি বলে তাঁদেরকে আবার কাজে ফেরত পাঠানো হয়।
বিস্ফোরণের ঘটনায় আহত বেশ কয়েকজন শ্রমিক জানান, কারখানাটিতে ঈদের ছুটি ছিল নয় দিনের। সোমবার ছিল ছুটির শেষ দিন। তবে শেষ তিন দিন নিটিং এবং ডাইং সেকশনে কাজ হচ্ছিল। বয়লারের পাশে ২১টি ডাইং মেশিনে কাজ করছিলেন প্রায় ৮০ জন শ্রমিক। বিকেলের দিকে পাঁচ টনের বয়লারে সমস্যা দেখা দেয়, সেফটি বাল্বের বিপৎসংকেত বেজে ওঠে। তখন ডাইং সেকশনের শ্রমিকদের কয়েকজন উদ্বিগ্ন হয়ে ছুটে আসেন। তবে বয়লার অপারেটররা তাদেরকে ‘তেমন কিছু না, ঠিক হয়ে যাবে’ বলে আবার কাজে ফিরে যেতে বলেন। কিছুক্ষণ পর আবার একইভাবে সেফটি বাল্ব বেজে ওঠে। এবারও যান ডাইং সেকশনের শ্রমিকেরা। মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে তাঁদের আবারও ফেরত পাঠানো হয়। এর ১০ মিনিট পরেই বয়লারটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়।
আহত শ্রমিক হারুনুর রশীদ বলেন, ‘পুরোটাই ওদের (কারখানা কর্তৃপক্ষ) গাফিলতিতে হয়েছে। বিস্ফোরণের আগে সেফটি বাল্ব কয়েকবার সিগন্যাল (বিপৎসংকেত) দিলেও তারা বয়লার চালানো বন্ধ করে নাই।’ বিস্ফোরণে তাঁর দুই সহকর্মী বিপ্লব ও মাহবুব ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন।
প্রধান বয়লার পরিদর্শক মোহাম্মদ আবদুল মান্নান বলেন, ‘কারখানা কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল আমাদের পরিদর্শকদের পরীক্ষ–নিরীক্ষার পর অনুমোদন দিলে বয়লারটি পুনরায় চালু করা। কিন্তু এর আগেই তারা সেটি করে ফেলছে।’
১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত মালটিফ্যাবসে সাড়ে চার হাজার শ্রমিক কাজ করেন। এই কারখানা মূলত ইউরোপের লিনডেক্স, আলদি, টম টেইলর, স্ক্যানওয়্যারসহ বেশ কিছু ব্র্যান্ড ও ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানের পোশাক তৈরি করে। কারখানাটি বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সদস্য।
সুত্র: প্র. আ.

" />
sa.gif

ছাড়পত্র ছাড়া বয়লার চালানোয় মালটিফ্যাবসকে জরিমানা
শুভংকর কর্মকার :: 21:53 :: Wednesday July 5, 2017


গাজীপুরের কাশিমপুরের নয়াপাড়া এলাকার মালটিফ্যাবস লিমিটেড নামের পোশাক কারখানার বয়লারে গত সোমবার ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। ছাড়পত্র ছাড়া এই বয়লার চালানোর দায়ে গাজীপুরের মালটিফ্যাবস কর্তৃপক্ষ জরিমানা করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রধান বয়লার পরিদর্শকের কার্যালয়। তবে জরিমানার পরিমাণ মাত্র ২০ হাজার টাকা।

জরিমানা নোটিশটি গতকাল মঙ্গলবার মালটিফ্যাবসের নামে ইস্যু করেছে প্রধান বয়লার পরিদর্শকের কার্যালয়। কারখানাটির বিরুদ্ধে অনুমোদনের চেয়ে বেশি চাপে এবং প্রধান বয়লার পরিদর্শকের ছাড়পত্র ছাড়া বয়লার চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ২৪ জুন কারখানার বিস্ফোরিত বয়লারটির ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ হয়। তারপরও গত শনিবার থেকে সেটি চালিয়ে আসছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।
গাজীপুরের কাশিমপুরের নয়াপাড়া এলাকার মালটিফ্যাবস লিমিটেড নামের পোশাক কারখানার বয়লারে গত সোমবার ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে কারখানাটিতে কর্মরত ১৩ জন শ্রমিক নিহত হন। আহত হন অর্ধশতাধিক শ্রমিক ও পথচারী।
জরিমানার বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রধান বয়লার পরিদর্শকের কার্যালয়ের প্রধান বয়লার পরিদর্শক মোহাম্মদ আবদুল মান্নান আজ বুধবার বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, ‘বয়লার আইনের ২৩ ও ২৪ ধারা অনুযায়ী মালটিফ্যাবসকে আমরা জরিমানা করেছি।’ এত কম জরিমানার বিষয়ে তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী আমরা কাজ করেছি।
গাফিলতি আর ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ১৩ শ্রমিক নিহত হওয়ার বিপরীতে মাত্র ২০ হাজার টাকা জরিমানার বিষয়টিকে হাস্যকর বলে মন্তব্য করেছেন শ্রম বিশেষজ্ঞ সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) এই নির্বাহী পরিচালক প্রথম আলোকে বলেন, বয়লার আইনটি শিগগিরই সংশোধন করা উচিত।
মালটিফ্যাবস লিমিটেডের কর্তৃপক্ষ গাফিলতিতেই বয়লারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে। ২৪ জুন বয়লারটি মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও গত শনিবার থেকে সেটি চালানো হচ্ছিল। এমনকি বিস্ফোরণের আগে ডাইং সেকশনের শ্রমিকেরা দুর্ঘটনার আঁচ করেছিলেন। তবে কিছু হয়নি বলে তাঁদেরকে আবার কাজে ফেরত পাঠানো হয়।
বিস্ফোরণের ঘটনায় আহত বেশ কয়েকজন শ্রমিক জানান, কারখানাটিতে ঈদের ছুটি ছিল নয় দিনের। সোমবার ছিল ছুটির শেষ দিন। তবে শেষ তিন দিন নিটিং এবং ডাইং সেকশনে কাজ হচ্ছিল। বয়লারের পাশে ২১টি ডাইং মেশিনে কাজ করছিলেন প্রায় ৮০ জন শ্রমিক। বিকেলের দিকে পাঁচ টনের বয়লারে সমস্যা দেখা দেয়, সেফটি বাল্বের বিপৎসংকেত বেজে ওঠে। তখন ডাইং সেকশনের শ্রমিকদের কয়েকজন উদ্বিগ্ন হয়ে ছুটে আসেন। তবে বয়লার অপারেটররা তাদেরকে ‘তেমন কিছু না, ঠিক হয়ে যাবে’ বলে আবার কাজে ফিরে যেতে বলেন। কিছুক্ষণ পর আবার একইভাবে সেফটি বাল্ব বেজে ওঠে। এবারও যান ডাইং সেকশনের শ্রমিকেরা। মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে তাঁদের আবারও ফেরত পাঠানো হয়। এর ১০ মিনিট পরেই বয়লারটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়।
আহত শ্রমিক হারুনুর রশীদ বলেন, ‘পুরোটাই ওদের (কারখানা কর্তৃপক্ষ) গাফিলতিতে হয়েছে। বিস্ফোরণের আগে সেফটি বাল্ব কয়েকবার সিগন্যাল (বিপৎসংকেত) দিলেও তারা বয়লার চালানো বন্ধ করে নাই।’ বিস্ফোরণে তাঁর দুই সহকর্মী বিপ্লব ও মাহবুব ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন।
প্রধান বয়লার পরিদর্শক মোহাম্মদ আবদুল মান্নান বলেন, ‘কারখানা কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল আমাদের পরিদর্শকদের পরীক্ষ–নিরীক্ষার পর অনুমোদন দিলে বয়লারটি পুনরায় চালু করা। কিন্তু এর আগেই তারা সেটি করে ফেলছে।’
১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত মালটিফ্যাবসে সাড়ে চার হাজার শ্রমিক কাজ করেন। এই কারখানা মূলত ইউরোপের লিনডেক্স, আলদি, টম টেইলর, স্ক্যানওয়্যারসহ বেশ কিছু ব্র্যান্ড ও ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানের পোশাক তৈরি করে। কারখানাটি বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সদস্য।
সুত্র: প্র. আ.



Comments





Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution