sa.gif

রেকর্ড সংখ্যক জনশক্তি রফতানি, তবুও কমেছে রেমিটেন্স
আওয়াজ প্রতিবেদক :: 18:46 :: Thursday January 5, 2017 Views : 15 Times

গত ৮ বছরের মধ্যে বিদায়ী ২০১৬ সালে সবচেয়ে বেশি (রেকর্ড) সংখ্যক জনশক্তি (কর্মী) বিদেশে রফতানি করেছে বাংলাদেশ। বিদায়ী বছরে দেশ থেকে বিশ্বের অন্যান্য দেশে কর্মসংস্থান হয়েছে ৭ লাখ ৫৭ হাজার ৭৩১ জন বাংলাদেশির। আগের বছরে (২০১৫) এ সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৮৮১ জন। তবে জনসংখ্যা রফতানির হার ব্যাপকভাবে বাড়লেও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবাহে ভাটা পড়েছে। ২০১৫ সালে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ যেখানে ছিল ১৫২৭০.৯৯ মার্কিন ডলার, সেখানে ২০১৬ সালে তা নেমে ১৩৬০.৭৭ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের প্রধান শ্রমবাজার মধ্যপ্রাচ্যে অর্থনৈতিক মন্দা এবং সেখান থেকে অবৈধ পথে দেশে টাকা পাঠানোর কারণে রেমিট্যান্স কমছে। পাশাপাশি, দেশগুলোর মুদ্রার মূল্যমান কমে যাওয়াও অন্যতম একটি কারণ।

জনশক্তি রফতানি ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) সূত্রে জানা যায়, বিদায়ী ২০১৬ সালে বাংলাদেশে থেকে বিদেশে যাওয়া ৭ লাখ ৫৭ হাজার ৭৩১ জনের মধ্যে এক লাখ ১৮ হাজার ৮৮ জনই নারীকর্মী। যাদের অধিকাংশই গেছেন সৌদি আরব (৬৮ হাজার ২৮৬ জন), জর্ডান (২২ হাজার ২৮৯ জন) এবং ওমানসহ (১২ হাজার ৮৯৭ জন) মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে।

২০১৬ সালে বিদেশে যাওয়া মোট কর্মীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গেছেন ওমান, সৌদি আরব, কাতারে। এ তিনটি দেশে যথাক্রমে এক লাখ ৮৮ হাজার ২৪৭ জন, এক লাখ ৪৩ হাজার ৯১৩ জন ও এক লাখ ২০ হাজার ৩৮২ জন গেছেন। এর বাইরে বাহরাইনে ৭২ হাজার ১৬৭ জন, সিঙ্গাপুরে ৫৪ হাজার ৭৩০ জন, মালয়েশিয়ায় ৪০ হাজার ১২৬ জন, কুয়েতে ৩৯ হাজার ১৮৮ জন কর্মীর কর্মসংস্থান হয়েছে।

নিরাপত্তাজনিত কারণে বর্তমানে যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ লিবিয়ায় কর্মী প্রেরণ আপাতত স্থগিত রয়েছে। বড় পরিসরে কর্মী যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে মালয়েশিয়া ও সৌদি আরবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ২০০৮ সালে রেকর্ড ৮ লাখ ৭৫ হাজার ২৭৮ জন কর্মীর কর্মসংস্থান হয়েছিল বিদেশে। এরপর থেকে জনশক্তি রফতানি কমতে থাকে। ১৯৭৬ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত প্রতি বছরই বাড়ছিল রেমিট্যান্স। ২০১৩ সালে প্রথমবারের মতো কমে রেমিট্যান্স আয়। ২০১২ সালে যেখানে রেমিট্যান্সে আসে ১৪১৬৩.৯৯ মার্কিন ডলার সেখানে ২০১৩ সালে তা কমে দাঁড়ায় ১৩.৮৩২.১৩ মার্কিন ডলারে। এরপরের দুই বছর বেড়েছে রেমিট্যান্স। ২০১৪ সালে ১৪৯৪২.৫৭ মার্কিন ডলার ও ২০১৫ সালে ১৫২৭৬.৯৯ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

গত নভেম্বর মাসে সৌদি আরবে এক হাজার ৮শ’ বাংলাদেশি কর্মী বেকার হয়েছেন। দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ বলেন, তেলের দাম কমে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর আয় কমে গেছে। বাজেটে অনেক কাটছাঁট করা হয়েছে। অনেক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বন্ধ রয়েছে। দেশগুলোর চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোরও আয় কমেছে। এ কারণে অনেক কর্মী বেকার হয়ে পড়েছেন। এর একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে রেমিট্যান্স প্রবাহে।

জনশক্তি রফতানির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও বলছেন মধ্যপ্রাচ্যে অর্থনৈতিক মন্দার কারণে আয় কমেছে। জনশক্তি রফতানিকারকদের সংগঠন বায়রা মহাসচিব রুহুল আমিন স্বপন বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা রেমিট্যান্স কমার প্রধান কারণ।

এদিকে প্রবাসী কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক সময় অবৈধ হুন্ডির মাধ্যমে অনেকে দেশে টাকা পাঠাতেন। সরকারের কঠোর পদক্ষেপের কারণে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠানো কমে যায়। বর্তমানে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠানো আবার বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণা বলছে, বিশেষত অর্থনৈতিক মন্দার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে মুদ্রার মান কমে গেছে। এসব দেশের মুদ্রার বিনিময়ে আগের তুলনায় কম টাকা পাওয়া যাচ্ছে। তাই প্রবাসী কর্মীরা লাভের আশায় ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা না পাঠিয়ে হুন্ডির মাধ্যমে পাঠাচ্ছেন।

গত ৬ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেছিলেন, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বিদেশে ৪৮ শতাংশ কর্মসংস্থান বাড়লেও রেমিটেন্স ২ দশমিক ৫০ শতাংশ কমেছে। বেশি লাভের আশায় হুন্ডি করে টাকা পাঠানোর কারণেই রেমিটন্স কমেছে।

তিনি বলেছিলেন, অনেকে বেশি লাভের আশায় হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশ থেকে টাকা পাঠায়। যে কারণে রেমিটেন্স কমেছে। বর্তমানে হুন্ডির ব্যবসা জমজমাট রূপ নিয়েছে। তবে সরকার হুন্ডি ব্যবসা রোধের চেষ্টা করছে। আশা করি সফল হব। সেক্ষেত্রে রেমিটেন্স বাড়বে।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও বায়রার সূত্রে জানা গেছে, চলতি জানুয়ারি মাসেই ‘জিটুজি প্লাস’ চুক্তির আওতায় সরকারের পাশাপাশি বেসরকারিভাবে বড় পরিসরে মালয়েশিয়ায় কর্মী যাওয়া শুরু হচ্ছে। ইতিমধ্যে উভয় দেশের মধ্যে কারিগরি সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এখন শুধু অপেক্ষা। মালয়েশিয়ায় কর্মী যাওয়া শুরু হলে বিপুল পরিমাণ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। রেমিট্যান্স প্রবাহেও গতি বাড়বে।

অন্যদিকে, বিদেশে কর্মী যাওয়ার হার গত বছরের তুলনায় বাড়লেও প্রবাসীদের রেমিটেন্স প্রবাহ কমার পেছনে বেশ কিছু কারণ দেখছেন বিশ্লেষকরা। এর মধ্যে অদক্ষ শ্রমিক বেশি পাঠানো, নির্যাতিত হয়ে বা নানা কারণে কর্মীর দেশে ফিরে আসা, বেতন না পাওয়া অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রামের (ওকাপ) চেয়ারম্যান শাকিরুল ইসলাম এ ব্যাপারে দ্য রিপোর্টকে বলেন, আগের চাইতে বিদেশে কর্মী যাওয়ার হার বেড়েছে, এটা ভাল দিক। কিন্তু কর্মী পাঠানোর হিসেব থাকলেও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাছে বিদেশ থেকে কী পরিমাণ কর্মী ফেরত আসছে এ তথ্য নেই। অথচ নির্যাতিত হয়ে বা প্রতারিত হয়ে প্রতিনিয়ত কর্মীরা দেশে ফিরে আসছেন। রেমিটেন্স প্রবাহ কমার এটাও একটা বড় কারণ হতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. তাসনিম সিদ্দিকী জানিয়েছেন, বিগত ২০১৬ সালে জনশক্তি রফতানি ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। তবে কিছু কিছু কারণে তুলনামুলকভাবে রেমিটেন্স প্রবাহের হার ১১ ভাগ কমেছে। রেমিটেন্স কমার কারণ দেশের মুদ্রার অবমূল্যায়ন। এটা বৈধ চ্যানেলে রেমিটেন্স পাঠানোকে নিরুৎসাহিত করেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।



Comments





Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution