sa.gif

সাভারে পেঁপে ও কলা চাষে দুই বন্ধুর ভাগ্যবদল
আওয়াজ প্রতিবেদক :: 17:01 :: Tuesday October 25, 2016



 ব্যতিক্রমী কিছু করে সমাজে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান ও ফরমালিন এবং বিষমুক্ত সবজি চাষ করে এলাকার মানুষের চাহিদা পূরণের লক্ষ্য নিয়েই দুই বন্ধু মিলে শুরু করেন সবজি চাষ। মাত্র কয়েক মাসেই তাদের সে স্বপ্ন পূরণ হতে শুরু করেছে।

নরসিংদী থেকে আনা দেশি জাতের কলা ও পেঁপের চাষ করে সবজির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি সেগুলো বিক্রি করে ভালো আয় করছেন। তাদের বাগানে কাজ করেও সংসারে সচ্ছলতা ফিরেছে ১০-১৫ শ্রমিকের।

এ ছাড়া তাদের এ সাফল্য দেখে এলাকার তরুণ ও বেকার যুবকরাও উদ্যোগী হচ্ছেন সবজি চাষে। তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ পাওয়া গেলে সবজি চাষে আরও বিপ্লব ঘটানো সম্ভব বলে মনে করছেন এখানকার সচেতন মানুষরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাভারের আশুলিয়া ইউনিয়নের পাড়াগ্রামের দুই বন্ধু সাইদুর রহমান ও জাফর মিয়া। ছোট বেলা থেকে পড়ালেখার পাশাপাশি বাড়ির কৃষিকাজে সহযোগিতা করতো তারা। কখনো টমেটো, কখনো শশা আবার কখনো ফলিয়েছেন বিভিন্ন ধরনের সবজি।

এরই অংশ হিসেবে দুই বন্ধু মিলে পার্শ্ববর্তী বিরুলিয়া ইউনিয়নের খাগান এলাকায় হুমায়ুন কবির নামে এক ব্যক্তির ৪০ বিঘা পতিত জমিতে শুরু করেন পেঁপে ও কলা চাষ। নরসিংদী থেকে আনা ৪৫ দিন বয়সী দেশি জাতের ৫ হাজার পেঁপে ও ২ হাজার কলা চারা রোপণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দুই বন্ধুর সবজি চাষ।

গত জানুয়ারি মাসে এসব চারা রোপণের দুই মাস পর থেকেই ফল পেতে শুরু করেন তারা। বর্তমানে প্রতিদিন তাদের পেঁপে বাগান থেকে ৩০-৩৫ মন পেঁপে বাজারজাত করা হচ্ছে। পরে সেগুলো স্থানীয় গেন্ডা বাজার ও মিরপুর বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা কেজিতে। তবে বিষ ও ক্যামিক্যাল মুক্ত সবজি হওয়ায় এসব পেঁপের চাহিদাও রয়েছে

সরেজমিন পেঁপে বাগান ঘুরে দেখা যায় প্রতিটি পেঁপে গাছেই ভালো ফল এসেছে। সকাল থেকে পেঁপে উত্তোলন শুরু করেন এখানকার শ্রমিকরা। তাদের সাথে কখনো যোগ দিচ্ছে পাইকাররা। নিজেরাই পছন্দ মতো বাগান থেকে পেঁপে উত্তোলন করে কিন নিয়ে যাচ্ছেন গাড়িতে করে। এ ছাড়াও প্রতিদিন এ বাগানে পেঁপে উত্তোলন ও মোড়কীকরণে কাজ করছেন ১০-১৫ জন শ্রমিক। নগদ টাকা পাওয়ায় সুতার মিলে কাজের পাশাপাশি পেঁপে বাগানে কাজ করে বাড়তি আয়ে সংসারে সচ্ছলতা এনেছেন নারী শ্রমিক জহুরা ও ঝর্না বেগমেরা।

পেঁপে চাষী মো. জাফর মিয়া জানান, বর্তমানে বাজারে যেসব সবজি পাওয়া যায় তার সবই ফরমালিন দেওয়া। এগুলো খেয়ে আমাদের নানা ধরনের জটিল রোগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সম্পূর্ণ নির্ভেজাল, বীজ ও ফরমালিনমুক্ত সবজির চাহিদা মেটানোর জন্য এ উদ্যোগ নেই। কয়েক মাসের পরিশ্রমেই আমরা নিজেদের বিনিয়োগকৃত টাকা তুলে লাভের মুখ দেখছি। বর্তমানে আমাদের সাফল্য দেখে আরও অনেক বেকার যুবকরা সবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

রাজধানীর মিরপুর থেকে আসা পাইকার আকরাম জানান, ফরমালিন মুক্ত সবজি হওয়ায় এখানকার পেঁপে ও কলার বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। দামে তুলনামূলকভাবে একটু বেশি হলেও এসব সবজি অনেক বেশি সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে নেওয়ার সাথে সাথে তা বিক্রি হয়ে যায়। ফলে এখানকার সবজি বিক্রি করে আমরাও লাভবান হচ্ছি।

সাভার উপজেলা কৃষি অফিসার এমএ সালাম বলেন, আমরা ইতোমধ্যে দুই বন্ধুর পেঁপে বাগানে গিয়ে খোঁজ খবর নিয়েছি। তাদেরকে বিভিন্ন পরামর্শও দিয়েছি। তাদের মতো অন্য যে কেউ কৃষি বিষয়ে আমাদের সহযোগিতা চাইলে উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সকল ধরনের সেবা প্রদান করা হবে।



Comments



Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaz@yahoo.com
Contact: +880 1712 557138, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Nex-Ge Technologies Ltd.