sa.gif

রানা প্লাজা ধসে আহত হৃদয়ের স্মৃতি কারণ
এক সঙ্গে ১২ জন আটকে ছিলাম। অন্যরা আস্তে আস্তে মারা গেল।
মো. এসজে বাবু :: 15:21 :: Tuesday April 12, 2016 Views : 10 Times

মাহামুদুল হাসান হৃদয়  রানা প্লাজার একটি গার্মেন্টস কারখানায় কোয়ালিটি ইনসপেক্টর হিসাবে কাজ করতেন। রানা প্লাজার ধস হলে অন্যদের সাথে হৃদয়ও আটকে ছিলেন। অন্যরা মারা যায়। বেঁচে থাকেন শুধু হৃদয়।  হৃদয়ের ভাষায় তিনি বেঁচে থাকলেও যেন জীবন্ত লাশ, এ বাঁচা অর্থহীন। এ ব্যাপারে কথা হয় হৃদয়ের সাথে। হৃদয়ের সাক্ষাতকার নেয় মো. এসজে বাবু।

শ্রমিক আওয়াজ: কেমন আছেন?

হৃদয় : তিন বছর থেকে ঔষধ খেতে-খেতে আর ভালো লাগে না, খুব কষ্ট হয়। এখন ঔষধ খেতে তবে আল্লাহ যেমন রেখেছে তেমন আছি।

শ্রমিক আওয়াজ: ওই দিনগুলোর কথা মনে পড়লে কেমন লাগে..?

হৃদয়: বুকের ভিতর খুব যন্ত্রনা হয়। কেউ এমন প্রশ্ন করলে  বোধ হয়,
চোঁখে অঝর কাঁন্না আসে, নে পড়লে লিখতে বসি আর ভুলে থাকার চেষ্টা করি। অন্ধকার ভালো লাগেনা। আবার আলো দেখলে খুব চোঁখে সমস্যা হয়!

শ্রমিক আওয়াজ: বর্তমান অবস্থা ও অর্থিক অবস্থা কেমন...?

হৃদয়: ব্যাংকের ঋণসহ বর্তমানে দুই লক্ষের বেশি ঋণে আছি। তবে কেউ আমাকে সাহায্য করে নাই।
কোন সংগঠন কিংবা কোন সাহায্যকারী প্রতিষ্ঠান।

শ্রমিক আওয়াজ: রানা প্লাজা ভাঙ্গার পর ভিতরে আপনার এবং আপনার পাশে থাকা মানুষগুলোর অবস্থা কি ছিলো..?

্হৃদয়:  আমরা ১২ জন আটকে ছিলাম একই জায়গায়। আমাদের সবার ভিতর শুধু আমি একা বেঁচে আছি। আমি যে বেঁচে আছি এটা আমার কাছে মিথ্যা মনে হচ্ছে। ওই দিনের কথা মনে পড়লে বুকের ভেতর যন্ত্রনা করে। নিজের মাথার চুল নিজে ছিড়ে তিৎকর করে ওই ভয়ঙ্কর স্মৃতি ভুলতে চাই।
আমরা যেখানে আটকে ছিলাম আস্তে আস্তে সবাই নিসে সবাই নিস্তেজ হয়ে যেত লাগলো। আমার জীবন আসে কি না বুঝতে পারছিলাম ন্।া শরীরে কোন অনুভুতি নেই। আস্তে আস্তে সবাই মারা গেলে। আমি াশের একটি মেয়ের রক্ত খেয়ে বেছে ছিলাম। তারও এক সময় শেষ হয়ে যায় নিজের প্রসাব  খেয়ে  খেতেবাদ্য হয়েছিলাম। শুধুই মনে হতো আমি মারা যাচিছ। সেই ভয়ঙ্কর স্মতি আমি আর মনে করতে চাই না। আমি ওই স্মৃতি ভুলে তাকতে চাই, মাঝে মাঝে আপনারা এসে মনে করিয়ে দেন কেন? এখন আমি বেঁচে থেকেও যেন জীবন্ত লাশ।

শ্রমিক আওয়াজ: সংসার চলছে কি ভাবে?

হৃদয়: রানা প্লাজায় পা হারানোর পর আমি প্ঙ্গু হয়ে যায়। আগের মত চলা-ফেরা করতে পারি না। আয় রোজগার করতে পারি না। এ সব দেখে ঘরে বউ আমাকে ছেড়ে চলে যায়। বর্তমানে বৃদ্ধ বাবা-মা দুজই অসুস্থ। আমি নিজেও একজন রোগী । নিজে প্রতিদিন ওষু খেয়ে বেঁচে আছি। ছোট ভাই কলেজে পড়ে আর একটা ফার্মেসিতে আছি। তা থেকে কিছুটা আয় হয়। ছোট ভাই পুরো সংসার চালায়। আর ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে খুব কষ্টে জীবন-যাপন করছি। তবে সরকার যদি আমাদের পাশে দাঁড়াতো তাহলে সব কষ্ট ভুলে একটু শান্তিে বসবাস করতে পারতাম।

হৃদয়ের এখনো অসুস্থ্য্য। পা ভাঙ্গা। কথা বলেন কষ্ট করে। বাইরে থেকে ভাল আছে মনে হলেও বেঁচে আছে ওষধের চোরে। চলাফেরা করেন লা লাঠিতে ভর করে। এই কথা গুলো বলতে-বলতে অঝরে কাঁদলো রানা প্লাজায় পা হারানো এই  শ্রমিক মাহামুদুল হাসান হৃদয়। তিনি কথাগুলো বলছিলেন একটি ওষুধের দোকানে। তিনি যখন কথা বলছিলেন সবাই সবার চোখে পানি চলে আসে। কথা বলতে বলতে এক সময় বাকরুদ্ধ হয়ে আসে হুদয়ের। আর কথা বলতে পারছিল না। সবাই নিচের দিকে তাকিয়ে চোখের পানি লুকাতে চেষ্টা করছিলেন।  



Comments





Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution