sa.gif

ডাল চাষে আগ্রহী হচ্ছে কৃষক
আওয়াজ প্রতিবেদক :: 11:56 :: Saturday November 28, 2015


অল্প সময়ে বেশি লাভ। খরচ নেই। সার, বিষ, নিড়ানি কিছুই লাগে না। বুনে দিলেই হয়। বাজারে দামও বেশি। আমরা তাই মসুর ডাল চাষ করি-এভাবে ডাল চাষের কথা জানান ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মোস্তবাপুর গ্রামের কৃষক আলমগীর হোসেন। আলমগীরের মতো একই তথ্য জানান আমন ধান কেটে ডাল চাষে ব্যস্ত থাকা দেশের দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের ডালচাষিরা।

তারা জানান, ডাল চাষ করতে মাত্র দুই মাস সময় লাগে। উত্পাদন ব্যয়ও কম। বাজারে দাম বেশি থাকায় এক বিঘা জমিতে মসুর ডাল চাষ করে ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। ডালচাষিদের সঙ্গে একমত বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, কৃষকদের আগ্রহ, উফশী জাত ও যত্নের কারণে গত পাঁচ বছরে দেশে হেক্টরপ্রতি ডাল জাতীয় শস্যের ফলন বেড়েছে ১৬ শতাংশ।
কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের আঞ্চলিক ডাল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. ওমর আলী বলেন, হেক্টরপ্রতি ডালের ফলন বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি হেক্টরে ডাল উত্পাদন হয় ১ দশমিক ১১ টন। কয়েক বছর আগেও দশমিক ৯০ টন ছিল। উন্নতমানের জাত ও কৃষকদের আগ্রহের কারণে এটি সম্ভব হয়েছে। এছাড়া কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে একাধিক মসুর, মুগ ও ছোলাসহ অন্য ডালের উফশী জাত অবমুক্ত করা হয়েছে। এসব জাতের উত্পাদন ও অনু-পুষ্টি বেশি রয়েছে। বিশেষ করে বারি মসুর ৬-এ আয়রনের পরিমাণ ৮৭ পিপিএম ও জিঙ্ক ৬৩ পিপিএম রয়েছে।
তিনি বলেন, দেশে জনপ্রতি দিনে প্রায় ৪৫ গ্রাম করে ডালের চাহিদা রয়েছে। সেই হিসেবে দেশে ডালের চাহিদা প্রায় ২৬ লাখ ২৮ হাজার টন। চাহিদার অর্ধেক কম দেশে উত্পাদিত হয়। বাকিটা বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়ে থাকে।
তিনি বলেন, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের বোরো ও আমন মৌসুমের মধ্যবর্তী সময়ে স্বল্পমেয়াদি ডাল ফসল উত্পাদনকে উত্সাহিত করে ডালের উত্পাদন বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আমন ও বোরোর মাঝে মাত্র দুই মাসের মধ্যে এক বিঘা জমিতে একজন কৃষক মটরশুঁটি চাষ করে লক্ষাধিক টাকা আয় করতে পারেন। অনেক কৃষক বাড়তি আয় করতে ডাল চাষকে বেছে নিয়েছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের (ডিএই) হিসেবে ২০০৯-১০ অর্থবছরে ৬ লাখ ৬৭ হাজার হেক্টর জমিতে ডাল জাতীয় ফসল মসুর, ছোলা, মাষকলাই, খেসারি, মুগ ও ফেলন মোট উত্পাদন হয়েছিল ৬ লাখ ৪৭ হাজার টন। ২০১৩-১৪ বছরে ৭ লাখ ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে মোট ডাল উত্পাদন হয়েছে ৮ লাখ ২৪ হাজার টন। এই সময়ের মধ্যে হেক্টরপ্রতি দশমিক ৯৬ টন থেকে বেড়ে হয়েছে ১ দশমিক ১১ টন।
একই বছরে ১ লাখ ৮২ হাজার হেক্টর জমিতে প্রায় ২ লাখ ৩২ হাজার টন মসুর ডাল উত্পাদিত হয়। একই বছর খেসারি উত্পাদিত হয়েছে ২ লাখ ৯৩ হাজার টন। চলতি মৌসুমে ৭ লাখ ৯৭ হাজার হেক্টর জমিতে ডাল জাতীয় ফসল আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যে দেখা গেছে, দেশের দক্ষিণের জেলা পটুয়াখালী, সাতক্ষীরা, যশোর, ফরিদপুর ও কুষ্টিয়াসহ উত্তরবঙ্গের জেলা রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, নাটোর ও নওগাঁসহ প্রায় প্রতিটি জেলায় ডাল জাতীয় ফসলের আবাদ বেশি হয়ে থাকে।
অল্প পরিচর্যা ও বৃষ্টিনির্ভর ফসল হিসেবে অপেক্ষাকৃত কম উর্বর জমিতে ডাল চাষ করা হয়ে থাকে। কম খরচে উত্পাদন করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন বলে ডাল জাতীয় ফসল উত্পাদন বেড়েছে বলে জানান কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী ড. নাজিম উদ্দিন।
তিনি বলেন, ডাল জাতীয় ফসল আমাদের উদ্ভিদজাত প্রোটিনের ঘাটতি পূরণ করে। মাটিতে নাইট্রোজেন জমা করে মাটির উর্বরতা বাড়িয়ে দেয়। দেশের খাদ্য সংস্কৃতিতে ডালের ঐতিহ্য রয়েছে। সেটির সম্ভাবনাও ব্যাপক। তাই ডাল ফসল উত্পাদন বাড়াতে আরও উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
সেচনির্ভর বোরো আসায় ডাল চাষ অনেকটা কমে এসেছিল। যদিও ডাল মাটির উর্বরতা বাড়িয়ে দেয়। ডাল জাতীয় খাদ্যে বিদেশনির্ভরতা কমাতে এর চাষ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন কৃষি গবেষক ড. এমএ সোবহান।



Comments



Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaz@yahoo.com
Contact: +880 1712 557138, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Nex-Ge Technologies Ltd.