sa.gif

বেহাল শ্রমিকদের হাতে ছেড়ে দেয়া মিলের
রাশেদ এইচ চৌধুরী ও সুজিত সাহা চট্টগ্রাম থেকে :: 00:18 :: Friday September 18, 2015 Views : 14 Times




রাষ্ট্রায়ত্ত মিলের জমি ভাড়া দেয়া হয়েছে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কাছে। উৎপাদন কার্যক্রম না চলায় যন্ত্রাংশ পরিণত হয়েছে স্ক্র্যাপে। আর অবকাঠামো ব্যবহার হচ্ছে গুদাম হিসেবে। সব নিয়ম ভেঙে একটি মিল আবার বিক্রিই হয়ে গেছে।

এ অনিয়ম হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত তিন মিল মডার্ন ক্যারিলিন সিল্ক মিলস, মডার্ন পাইলন ইন্ডাস্ট্রিজ ও মডার্ন ন্যাশনাল কটন মিলকে ঘিরে। সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে মিলগুলো ছেড়ে দেয়া হয়েছিল শ্রমিকদের হাতে। কিন্তু উৎপাদন তো নয়ই, উল্টো দুর্গতিতে রয়েছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী এসব রাষ্ট্রায়ত্ত মিল।

লাভজনক করতে ২০০১ সালে শ্রমিকদের হাতে তুলে দেয়া হয় রাষ্ট্রায়ত্ত মডার্ন ক্যারিলিন সিল্ক মিলস। সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার বদলে জালিয়াতির মাধ্যমে ১৭ কোটি টাকায় এটি বিক্রি করে দেন মিলের সাবেক শ্রমিক নেতা ও চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইসহাক। মিলটির ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান ইস্পাত প্রস্তুতকারক বিএসআরএম। যদিও প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী মিলটি ক্রয়-বিক্রয়ের কোনো নিয়ম নেই।

সরকারি হস্তান্তর নীতিমালার ৪ নং শর্তের ১০ ও ১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মিল বন্ধ রেখে অন্য কোনো বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা ও মিলের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করা যাবে না। চুক্তির বরখেলাপ হলে যেকোনো সময় সরকার ওই মিল নিজের মালিকানায় নিয়ে নিতে পারবে।

ফৌজদারহাটের এ মিলের জমির পরিমাণ ২ দশমিক ৮৯ একর। সরেজমিন দেখা যায়, মিলের এ জায়গাজুড়ে স্তূপ করে রাখা বিএসআরএমের বিলেট ও বড় বড় ট্রেইলার। পুরো স্থানটি রাখা হয়েছে বিশেষ নজরদারিতে।

অভিযোগ আছে, জালিয়াতির মাধ্যমে বিক্রি হওয়া মিলের জমি নিজেদের নামে নামজারির চেষ্টা করছে বিএসআরএম। পাশাপাশি মিলের জমিতে কারখানা সম্প্রসারণের প্রক্রিয়াও শুরু করেছে ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান। যদিও এতে বাধা দিয়েছেন মিলের সাধারণ শ্রমিক-কর্মচারীরা।

জানতে চাইলে বিএসআরএমের নির্বাহী পরিচালক তপন সেনগুপ্ত বণিক বার্তাকে বলেন, আমরা জায়গা রেজিস্ট্রি করে নিয়েছি। প্রক্রিয়াটি বৈধ নাকি অবৈধ, তা জানতে বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে তিনি এর বেশি কথা বলতে রাজি হননি।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে ভারী শিল্প এলাকা ফৌজদারহাটে মর্ডান ক্যারিলিন সিল্ক মিলস প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৬৪ সালে। এর দুই বছর পর বাণিজ্যিক উৎপাদনে যায় মিলটি। ২০০০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারির প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী শ্রমিক-কর্মচারীদের কাছে ২০০১ সালে মিলটি হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘমেয়াদি ঋণের বিপরীতে ৩০ কোটি ৪ লাখ ২ হাজার টাকা পরিশোধ করার পর ২০১০ সালের মে মাসে শ্রমিক-কর্মচারীদের নামে সাব-কবলামূল্যে রেজিস্ট্রি করে দেয়া হয়। একই বছরের নভেম্বরে ১৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকায় মিলটির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিএসআরএমের কাছে বিক্রি করে দেন মোহাম্মদ ইসহাক।

শ্রমিকদের হাতে ছেড়ে দেয়া রাষ্ট্রায়ত্ত আরেক প্রতিষ্ঠান মডার্ন ন্যাশনাল কটন মিল। ১৯৯৬ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া মিলটি ২০১১ সালে শ্রমিক-কর্মচারীদের নামে হস্তান্তর করা হয়। মিলটির জমির পরিমাণ ৯ দশমিক ৬৫ একর। মিলের ২৭৭ জন শেয়ারহোল্ডারের কেউই এখানে বিনিয়োগে আগ্রহী নন। ফলে উৎপাদনেও যেতে পারেনি মিলটি।

ন্যাশনাল মডার্ন কটন মিলের প্রতিষ্ঠা ১৯৩৯ সালে। ১৯৮০ সালে মিলটি ফৌজদারহাট এলাকায় স্থানান্তর করা হয়। সম্প্রতি সরেজমিনে মিল পরিদর্শনে দেখা যায়, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় স্ক্র্যাপ হিসেবে পড়ে আছে মিলের যন্ত্রপাতি। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ভাড়া নিয়ে গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছে মিলের অবকাঠামো।

মিলের পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান কানুরাম বৈদ্য বলেন, এখন পর্যন্ত রেজিস্ট্রিমূল্যে মালিকানা হস্তান্তর হয়নি। ফলে ঋণ দিতে রাজি হচ্ছে না কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান। সরকারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় মিলের যন্ত্রপাতির পাশাপাশি অবকাঠামো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

চট্টগ্রামে শ্রমিকদের হাতে ছেড়ে দেয়া বিটিএমসির তৃতীয় মিলটি ফৌজদারহাটের মডার্ন পাইলন ইন্ডাস্ট্রিজ। ২০০১ সালে শ্রমিকদের তত্ত্বাবধানে ছেড়ে দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত এটি চালু করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। সরেজমিনে দেখা যায়, গুদাম হিসেবে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দেয়া আছে মিলের জমি ও অবকাঠামো।

নাইলন সুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটি গড়ে ওঠে ১৯৬৫ সালে। ওই সময়ে মিলে স্পিন্ডল ছিল ৭৮০টি। মিলটির মোট জমির পরিমাণ ২ দশমিক ৫২ একর। তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকে সংগ্রহের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। সরকারের পাওনা এখনো ৪ কোটি ৮ লাখ টাকা।

জানতে চাইলে মডার্ন পাইলন ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মাজেদ চৌধুরী বলেন, মিল চালু করতে বিনিয়োগের প্রয়োজন হলেও কোনো ব্যাংকই ঋণ দিতে চাইছে না। ফলে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও এটি চালু করা যাচ্ছে না।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কোম্পানি গঠনের মাধ্যমে মিলগুলোর মালিকানা শ্রমিক-কর্মচারীদের কাছে হস্তান্তর করা হলেও কোনো ধরনের মূলধন বিনিয়োগ করা হয়নি। শুধু লাভ তুলে নেয়ার চেষ্টায় ছিলেন শ্রমিকরা। মিলের জায়গা ভোগ-দখলে প্রায়ই শ্রমিকরা নিজেরাই লিপ্ত হয়েছেন দাঙ্গা-হাঙ্গামায়। রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় মিলের মালিকানা কিছু সংখ্যক শ্রমিক নেতার কুক্ষিগত হওয়াই মিল চালু না হওয়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিটিএমসির সচিব মো. ইউসুফ আলী এ প্রসঙ্গে বলেন, শ্রমিক-কর্মচারীদের হাতে ছেড়ে দেয়া হলেও মিলগুলো চালু করতে কেউই আগ্রহী হননি। মডার্ন ক্যারিলিন সিল্ক মিলস বিএসআরএমের কাছে বিক্রি করে দেয়ার পর হাইকোর্টে আপিল মামলা চলছে। সরকারও শেয়ারহোল্ডারদের মামলায় পক্ষভুক্ত হয়েছে। মামলাজনিত জটিলতা দূর করে ব্যর্থ মালিকদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ এসব মিল ফিরিয়ে নেয়ার চিন্তাভাবনা চলছে।
বনিক বার্তার সৌজন্যে



Comments





Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution