sa.gif

ক্ষতিপূরণ নিয়ে বিজিএমইএর ভূমিকা খুবই লজ্জাজনক
শুভংকর কর্মকার :: 21:12 :: Saturday August 22, 2015





 
রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার নেতৃত্বে গঠিত সমন্বয় কমিটি গত মাসে ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি সম্পন্ন করেছে। তবে শ্রমিকনেতাদের অনেকেই এটিকে ক্ষতিপূরণ না বলে অর্থ-সহায়তা বলছেন। ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি শ্রমিক অধিকার নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও রানা প্লাজা ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের হার নির্ধারণে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত কমিটির একটি উপকমিটির প্রধান এম এম আকাশ এবং বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার্স সলিডারিটির নির্বাহী পরিচালক কল্পনা আক্তার


প্রশ্ন: রানা প্লাজা ধসের ২৭ মাস পর আহত শ্রমিক ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা ক্ষতিপূরণের অর্থ বুঝে পেলেন। বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

কল্পনা আক্তার: : নতুন একটি উদ্যোগের মাধ্যমে রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। স্পেকট্রাম ও হা-মীমের দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে অনেকটা এভাবেই ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছিল। তবে এটিকে প্রকৃত অর্থে ক্ষতিপূরণ বলা যায় না। কারণ ক্ষতিপূরণের জন্য গঠিত তহবিলে সবাই দান-খয়রাত করেছে। বিষয়টি অন্যভাবে হতে পারত। সেটি না হওয়ায় সরকার ও মালিকদের ওপর আমরা প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। তা ছাড়া দেশে আইনের শাসন কার্যকর হলে প্রক্রিয়াটি শেষ হতে দুই বছর লাগত না। ক্রেতাদের জন্যও যদি ধরাবাঁধা নিয়ম-নীতি থাকত তাহলে তাদের সময়সীমা বেঁধে, তাদের অফিস-বাসার সামনে মিছিল করে লজ্জা দিয়ে অর্থ আদায় করতে হতো না। এটা খুবই লজ্জাজনক যে শ্রম আইন অনুসারে একজন শ্রমিক মারা গেলে ১ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ও স্থায়ীভাবে পঙ্গু হলে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা পাবে। একুশ শতকের এই সময়ে একটি কারখানায় যেখানে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়, সেখানে শ্রমিকের জীবনের মূল্য কিনা ১ লাখ টাকা!

প্রশ্ন:: ক্ষতিপূরণের বিষয়ে কারখানা মালিক ও বিজিএমইএকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান শ্রমিকনেতারা। সরকারও কি দায় এড়াতে পারে?

কল্পনা আক্তার: বিজিএমইএর ভূমিকা খুবই লজ্জাজনক। রানা প্লাজা ধসের পর তাদের অনেক দায়িত্ব ছিল, কিন্তু তারা করেছে চ্যারিটি। ক্ষতিপূরণ বলতে বিমার টাকা তুলে ও সদস্যদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে কিছু অর্থ-সহায়তা দিয়েছে। তবে বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে? মানে সাংসদদের (এমপি) একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তৈরি পোশাক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। ফলে নামে ও বেনামে সরকার চায় না এসব হোক। আবার ঘটনার পর অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে অর্থ জমা দেন। তবে কত অর্থ জমা পড়েছে তার সঠিক পরিমাণই আমরা জানি না। সংবাদপত্রের মাধ্যমে যত দূর শোনা যায় শতকোটি টাকার বেশি জমা হয়েছিল। ওই সময় তো আর কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। ফলে পুরো অর্থই আহত শ্রমিক ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা পাওয়ার দাবিদার। কিন্তু সরকার বলল, রানা প্লাজা নিয়ে তাদের কোনো তহবিল নেই। এভাবে কীভাবে চোখ বন্ধ করা যায়, আমার বোধগম্য নয়।

প্রশ্ন:: কারখানা মালিকপক্ষ ও তাদের সংগঠন বিজিএমইএ যেভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া থেকে পিঠ বাঁচাল সেটি কি শিল্পের জন্য ইতিবাচক হলো?

কল্পনা আক্তার: আমাদের আইনটি দুর্বল। আইনের এই ফাঁকফোকর আর নিজেদের অর্থের জোর দিয়েই মালিকেরা সব সময় বেঁচে যান। পোশাকশিল্পকে দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড বলা হয়। কিন্তু একটিবারও এই শিল্পের শ্রমিকদের মূল্য দেওয়া হয় না। এ ক্ষেত্রে ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানগুলোও বড় অপরাধী। পশ্চিমা দেশ থেকে তাদের শ্রমিক ঠকানো শুরু হয়েছিল। এখন তারা এসেছে দক্ষিণে। তারা কেবল মুনাফার কথাই চিন্তা করে। তবে এই অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। আমরা পরিবর্তন করব। শিল্পের শক্ত ভিতের জন্য স্বপ্নবাজ মানুষ দরকার। এখন যাঁরা গার্মেন্টস ব্যবসায়ী তাঁরা সুদূরপ্রসারী চিন্তাভাবনা করছেন না। তাঁদের ভাবনা, এই দেশে কিছু হবে না, লাভ করো আর অন্য দেশে গিয়ে সম্পদ গড়ো। তাই শ্রমিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়তো থেকে যাবেই।



Comments





Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution