sa.gif

এখনো ক্রীতদাস হারাগাছের বিড়ি-শ্রমিকরা
জাহাঙ্গীর আলম বাদল, রংপুর :: 12:19 :: Saturday May 2, 2015 Views : 16 Times

মে দিবস আসলেই যেন শ্রমিকদের দাবি আদায়ে সভা-সমাবেশ, শোভাযাত্রাসহ নানা আয়োজনের ধুম পড়ে যায়। এ দিনে বড় বড় বুলিতে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে মেহনতি মানুষের জন্য নিজেদের জান-কোরবান করে দেন বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। সরকারও এ দিন শ্রমিক ¯^ার্থে নানা প্রতিশ্রুতির বৃষ্টি ঝরায়। কিন্তু তারপর? যে লাউ, সে-ই কদু!
 

দেশের অন্যতম বৃহৎ বিড়ি শিল্পসমৃদ্ধ রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছের শ্রমচিত্র বার বার যেন সেই কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। এখানকার  শতাধিক কারখানায় ক্রীতদাসের মত নামমাত্র মুল্যে শ্রম বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন বিড়ি-শ্রমিকরা। আরও গুরুতর অভিযোগটি হলো, ঝুঁকিপূর্ণ এই কাজটিতে অনেকটা প্রকাশ্যেই ব্যাবহার হচ্ছে শিশুরা।
সরেজমিন অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে এসব তথ্য।

হারাগাছ পৌর এলাকার মায়াবাজার মহল্লার কল্পনা বেগম সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিড়ি তৈরি করেন দুই মেয়েকে নিয়ে। তিনজনে মিলে মজুরি পান মাত্র ৬০ টাকা। যা দিয়ে তার এক বেলাও চলে না।

একই অবস্থা মর্জিনা বেগমেরও। তিনিও সারা দিন কাজ করে আয় করতে পারেন সর্বোচ্চ ৬০ টাকা।  অভাবের তাড়নায় একমাত্র মেয়েটির স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়ে তাকেও নিজের সঙ্গে কাজে লাগিয়েছেন মর্জিনা। তিনি জানান, এখানে এক হাজার বিড়ি তৈরির মজুরি মাত্র ২০ টাকা।  পরিবারের ৩ সদস্য মিলে সারাদিন কাজ করলেও ৩ হাজারের বেশি বিড়ি তৈরি করা যায় না। তাই, এতে ৬০ টাকার বেশি আয় করাও সম্ভব হয় না।

তামাক কারখানার শ্রমিক সালমা বেগম জানান, তামাকের গুঁড়া তৈরির মত অতি ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করেও একজন নারীশ্রমিক মজুরি পান মাত্র ১০০  টাকা। আর একই কাজ পুরুষরা করলে তাদের দেওয়া হয় আড়াইশ টাকা। তাই, নারী-পুরুষে পারিশ্রমিকের বৈষম্যও এখানে প্রকট।

বিড়ি কারখানা থেকে দেওয়া এ পারিশ্রমিককে খুবই কম মনে করেন শ্রমিক নেতা অলিউর। তার মতে,  মজুরির নামে শ্রমিকদের সঙ্গে  এমন প্রতারণা আর কোথাও নেই। অথচ বছরের পর বছর এভাবেই তাদের ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, হারাগাছ এলাকায় প্রায় ৩০ হাজার পরিবার আছে- যারা পুরোপুরি বিড়ি শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। অথচ এই ঝুঁকিপূর্ণ কাজেও শ্রমিকদের জন্য চিকিৎসা বা অন্য কোনো বাড়তি সুবিধাও নেই।
বার বার যোগাযোগ করে জানতে চাইলেও, এ সব বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি কোনো কারখানার মালিক বা কর্মকর্তা।
এদিকে, হারাগাছ পৌরসভার মেয়র সাদাকাত হোসেন ঝন্টু বলেন, ‘বতর্মান বাজার অনুযায়ী বিড়ি শ্রমিকদের মজুরি অত্যন্ত কম। সঠিকভাবে শ্রমিক আন্দোলন  না হওয়ায়  মজুরি বৈষম্য দুর করা যাচ্ছে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘এই এলাকার অনেক কারখানায় শিশুশ্রম অব্যাহত আছে- যা খুবই দুঃখজনক। তিনি মনে করেন, এই এলাকায় বিড়ি কারখানার পাশাপাশি, অন্য শিল্প কারখানা গড়ে তুললে অবহেলিত এ অঞ্চলের শ্রমিকদের ভাগ্যের উন্ন্য়ন সম্ভব।



Comments





Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution