sa.gif

বোম্বাই মরিচ চাষে সফল স্বরুপকাঠি চাষীরা
গৌতম চৌধুরী , পিরোপজপুর, :: 2014-05-31 10:14:08


মাঠের পর মাঠ জুড়ে কাঁচা-পাকা বোম্বাই মরিচ। যেন লাল-সবুজের সমারোহ। এলাকায় এমন দৃশ্য আগে কেউ দেখেনি। তাই অনেকেই কৌতুহল নিয়ে জড়ো হচ্ছে রাস্তায় । দেখছে কাঁচা-পাকা বোম্বাই মরিচের ক্ষেত্রৈর দৃশ্য।


এমন দৃশ্য দেখা যাচ্ছে পিরোজপুরের স্বরুপকাঠি উপজেলার ২৮টি গ্রামে। এসব গ্রামের তিন সহস্রাধিক কৃষক বোম্বাই মরিচের চাষ করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন। চলতি বছর তিন থেকে সাড়ে তিন কোটি টাকার বোম্বাই মরিচ বিক্রি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


এতদিন পেয়ারা চাষের জন্যই বিখ্যাত ছিল স্বরুপকাঠি উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম। এখন পেয়ারার পাশাপাশি এখানে বাণিজ্যিকভাবে বোম্বাই মরিচেরও চাষ হচ্ছে। এতে কৃষকরা বিস্ময়কর সাফল্য অর্জন করেছেন। ফলে বৃদ্ধি পাচ্ছে এই মরিচের চাষাবাদ।


জানা গেছে, বোম্বাই মরিচের চাষ এ অঞ্চলে অনেক পুরনো হলেও বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ শুরু হয়েছে মাত্র তিন বছর হলো। আগে এখানকার প্রায় বাড়িতেই ঘরের পাশে, পুকুরের পাড়ে কিংবা রান্নাঘরের সাথে ছাইয়ের গাঁদার কাছে দুই/তিনটি বোম্বাই মরিচের চারা গৃহবধূরা রোপন করে যতœ নিতেন। এসব গাছের কাঁচা মরিচ ভাতের সঙ্গে খাওয়ার জন্যই মূলত: গৃহিনীরা গাছ লাগাতেন। আর তাদের এ অভ্যাস দীর্ঘদিনের ও নিত্যদিনের। ব্যাপকভাবে মরিচের চাষ করে বাজারজাতের মাধ্যমে যে লাখ টাকা উপার্জন করা সম্ভব তা ছিল তাদের কাছে কল্পনাতীত।


কিন্তু তাই বাস্তবে পরিণত হয়েছে কয়েক বছর ধরে। এখন স্বরুপকাঠির ২৮টি গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে বোম্বাই মরিচের। গত তিন/চার বছর ধরে একটু একটু করে এই মরিচের চাষ বৃদ্ধি পেলেও চলতি বছরে তা ব্যাপকভাবে চাষ হওয়াতে সাড়া পড়ে গেছে এলাকায়।


স্বরুপকাঠি উপজেলার আটঘর, কুড়িয়ানা ইউনিয়নের প্রায় সকল গ্রাম এবং সোহাগদল ও সুটিয়াকাঠি ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে এবছর বোম্বাই মরিচের ক্ষেতে ফলনও হয়েছে প্রচুর। বংকুরা গ্রামের সুশিল মিস্ত্রি জানান, তিনি এবারই প্রথম ১২ শতাংশ জমিতে বোম্বাই মরিচের চাষ করেন। চাষাবাদে তার প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয় কিন্তু এ পর্যন্ততিনি প্রায় ৩ লাখ টাকার মরিচ বিক্রি করেছেন এবং আরো লক্ষাধিক টাকার বিক্রি করা যাবে বলে আশা করছেন। মাত্র ৬/৭ মাসে ১২ শতক জমিতে এত উপার্জন অন্য কোন চাষাবাদে সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।


বংকুরা গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে কৃষক তার ক্ষেতে বসেই ব্যাপারীদের কাছে বোম্বাই মরিচ বিক্রি করছেন। প্রতি হাজার মরিচ এখন বিক্রি হচ্ছে আকার ভেদে চারশ’ থেকে পাঁচশ টাকা করে। ফলন ভেদে পার্থক্য থাকলেও প্রতি শতকে কম করে হলেও ৬০ থেকে ৭০ হাজার মরিচ উৎপাদিত হচ্ছে।


এদিকে কুড়িয়ানা, স্বরুপকাঠি, মিয়ারহাট এবং বানারীপাড়াতেও প্রতি হাটবার আলাদাভাবে বোম্বাই মরিচের হাট বসছে। দূর দূরান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা এসে কাঁচা, আধাপাকা মরিচ রাজধানীসহ দেশের উত্তরাঞ্চলে নিয়ে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন। কুড়িয়ানা এলাকার কৃষক মোকলেছুর রহমান জানান, কার্তিকের শেষে এবং অগ্রহায়ণের শুরুতে বোম্বাই মরিচের চীজ বপন করা হয়। অগ্রহায়ণের শেষে ক্ষেতে প্রস্তুত করে চারা তুলে নিয়ে সারিবদ্ধভাবে লাগানো হয়। মাঘ মাসে পথমবার ফুল এলেও বৈশাখ পর্যš— তিন/চার বার ফুল আসে এবং মরিচ বড় হতে থাকে। তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই বোম্বাই মরিচের বেশ কদর রয়েছে।


স্বরুপকাঠি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শহীদুল্লাহ মিয়া জানান, বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক আকারে এ অঞ্চলে এখন বোম্বাই মরিচের চাষ হচ্ছে। কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের রোগ-বালাই দমনসহ বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। তিনি জানান, এ বছর স্বরুপকাঠি উপজেলায় এই মরিচের উৎপাদনের পরিমাণ নিয়ে জরিপ চলছে। তবে কম করে হলেও এই উপজেলায় তিন থেকে সাড়ে তিন কোটি টাকার বোম্বাই মরিচ বিক্রি হবে বলে তারা আশা করছেন।



Comments



Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaz@yahoo.com
Contact: +880 1712 557138, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Nex-Ge Technologies Ltd.